০৬:৫৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হাসপাতালে স্যালাইন মজুদ, রোগীকে কেনাতে দেখে টাকা ফেরত স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হাসপাতালে স্যালাইন মজুদ, রোগীকে কেনাতে দেখে টাকা ফেরত দিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

নওগাঁর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যে স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও এক রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরে বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার টাকা ওই রোগীকে ফেরত দেন তিনি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ঘটনা জানতে পারেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
রোগীদের কাছ থেকে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান নিয়ে সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও পরিদর্শনে বেশ কিছু অনিয়ম ও সীমাবদ্ধতা মন্ত্রীর নজরে আসে।
মন্ত্রী বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বর্তমানে মাত্র ১০০ শয্যার বিপরীতে খাবারের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ সংকট দূর করতে এবং রোগীদের খাবারের মান উন্নত করতে প্রতি শয্যার খাবার বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় এক চিকিৎসক ৪৫ মিনিট দেরিতে কর্মস্থলে আসার বিষয়টিও মন্ত্রীর নজরে আসে। একই সঙ্গে হাসপাতালে বিনামূল্যে স্যালাইন থাকা সত্ত্বেও এক নার্স রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর এই খাতে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। আমরা মাত্র ছয় মাসে এই খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফেরানোর কাজ শুরু করেছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে সরকার বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসক সংকট দূর করতে আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার ফার্মাসিস্টসহ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, ডায়ালাইসিস সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে বিশেষ করে ঢাকার ওপর রোগীদের নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দৈনিক তিন শিফটে প্রায় ১৮০ জন রোগীকে সেবা দিতে পারবে।
এ ছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ শয্যা করার সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন ও টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিটি ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে প্রসূতিদের জন্য ২৫টি এবং শিশুদের জন্য পৃথক ২০টি বিশেষ শয্যা থাকবে। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড, সমলিঙ্গের ফিজিওথেরাপিস্ট ও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান, আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড এবং উন্নত প্যাথলজি ল্যাবের ব্যবস্থা থাকবে। এ লক্ষ্যে নয়তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে আরও চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে।
নার্স ও ফার্মাসিস্টসহ আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় ও দক্ষ জনবল যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদনহীন কার্যক্রম এবং অনিয়ম রোধে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধনের শর্ত না মানলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী মোবাইল কোর্ট অভিযান জোরদার করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

5 November 2026

হাসপাতালে স্যালাইন মজুদ, রোগীকে কেনাতে দেখে টাকা ফেরত স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Spread the love
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

এএসপি পদে পদোন্নতি পেলেন ৭৮ পুলিশ পরিদর্শক

হাসপাতালে স্যালাইন মজুদ, রোগীকে কেনাতে দেখে টাকা ফেরত স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০১:৩২:১৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নওগাঁর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বিনামূল্যে স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও এক রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরে বাইরে থেকে স্যালাইন কেনার টাকা ওই রোগীকে ফেরত দেন তিনি এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
রোববার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ ঘটনা জানতে পারেন।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, অপারেশন থিয়েটার, ফার্মেসি ও রান্নাঘর ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন।
রোগীদের কাছ থেকে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান নিয়ে সন্তোষজনক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেলেও পরিদর্শনে বেশ কিছু অনিয়ম ও সীমাবদ্ধতা মন্ত্রীর নজরে আসে।
মন্ত্রী বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও বর্তমানে মাত্র ১০০ শয্যার বিপরীতে খাবারের বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এ সংকট দূর করতে এবং রোগীদের খাবারের মান উন্নত করতে প্রতি শয্যার খাবার বরাদ্দ ১৭৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা করা হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় এক চিকিৎসক ৪৫ মিনিট দেরিতে কর্মস্থলে আসার বিষয়টিও মন্ত্রীর নজরে আসে। একই সঙ্গে হাসপাতালে বিনামূল্যে স্যালাইন থাকা সত্ত্বেও এক নার্স রোগীকে বাইরে থেকে স্যালাইন কিনতে বলার অভিযোগ পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছর এই খাতে কোনো জবাবদিহিতা ছিল না। আমরা মাত্র ছয় মাসে এই খাতে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা ফেরানোর কাজ শুরু করেছি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতালে স্বাস্থ্যসেবার পরিধি বাড়াতে সরকার বড় ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তৃণমূল পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সুবিধা পৌঁছে দেওয়া, শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি এবং চিকিৎসক সংকট দূর করতে আড়াই হাজার নার্স ও আড়াই হাজার ফার্মাসিস্টসহ প্রায় ৯ হাজার ৫০০ নতুন জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, ডায়ালাইসিস সেবার মান উন্নয়নের মাধ্যমে বিশেষ করে ঢাকার ওপর রোগীদের নির্ভরশীলতা কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি এবং জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড স্থাপন করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ডায়ালাইসিস মেশিন কেনার টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলা পর্যায়ে ডায়ালাইসিস সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা পর্যায়ে ৬০টি ডায়ালাইসিস মেশিন দৈনিক তিন শিফটে প্রায় ১৮০ জন রোগীকে সেবা দিতে পারবে।
এ ছাড়া আগামী দুই বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত ১০টি করে ডায়ালাইসিস বেড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে শয্যা সংখ্যা ৫০ থেকে বাড়িয়ে ১৫১ শয্যা করার সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদন ও টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
প্রতিটি ১৫১ শয্যার উপজেলা হাসপাতালে প্রসূতিদের জন্য ২৫টি এবং শিশুদের জন্য পৃথক ২০টি বিশেষ শয্যা থাকবে। নারী ও পুরুষের জন্য আলাদা ফিজিওথেরাপি ওয়ার্ড, সমলিঙ্গের ফিজিওথেরাপিস্ট ও চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান, আধুনিক আল্ট্রাসাউন্ড এবং উন্নত প্যাথলজি ল্যাবের ব্যবস্থা থাকবে। এ লক্ষ্যে নয়তলা বিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের অন্যতম বড় সমস্যা জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই ৫ হাজার নতুন চিকিৎসক নিয়োগের সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে। পাশাপাশি পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে আরও চিকিৎসক নিয়োগের মৌখিক পরীক্ষা চলছে।
নার্স ও ফার্মাসিস্টসহ আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের স্বাস্থ্য খাতে বড় ও দক্ষ জনবল যুক্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের অনুমোদনহীন কার্যক্রম এবং অনিয়ম রোধে কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কথাও বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, নিবন্ধনের শর্ত না মানলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনদের সমন্বয়ে দেশব্যাপী মোবাইল কোর্ট অভিযান জোরদার করা হবে।
স্বাস্থ্য খাতকে আরও সুসংগঠিত ও আধুনিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় নওগাঁ-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জাহিদুল ইসলাম ধলু, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুল ইসলাম, ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আ. ম. আখতারুজ্জামান, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জয়ব্রত পালসহ স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

5 November 2026

হাসপাতালে স্যালাইন মজুদ, রোগীকে কেনাতে দেখে টাকা ফেরত স্বাস্থ্যমন্ত্রী

Spread the love