১০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যাত্রাবাড়ীতে মাদকের স্পটের দখল নিতে ইমরানকে গুলি করে হত্যা,গ্রেফতার ৫

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন– রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ, কামরুল হাসান, মো. সাইফুল হোসেন, জামিল মিয়া ওরফে দোলন এবং মিঠু ওরফে ডোবার মিঠু।

গতকাল মঙ্গলবার ও আজ বুধবার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি তাজা গুলি, ছয়টি ককটেল, তিনটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।

ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ধলপুরের বাদল সরদার গলির একটি গ্যারেজে বসে ছিলেন ইমরান ও সাদ্দাম। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট ও মাস্ক পরা একদল ব্যক্তি সেখানে এসে তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়েও তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইমরান নিহত হন।

এ ঘটনায় ইমরানের স্ত্রী বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পার গেণ্ডারিয়া এলাকা থেকে মামলার মূল হোতা রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি তাজা গুলি ও একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা পিস্তলটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে রিয়াজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিছানার নিচ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ডেমরার পাঠানগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামরুল হাসান ও মো. সাইফুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ছয়টি ককটেল, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি ও দুটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ৮ সেপ্টেম্বর একই ঘটনায় জড়িত মিঠু ওরফে ডোবার মিঠুকে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় ৭০টি ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে আজ অভিযান চালিয়ে জামিল মিয়া ওরফে দোলনকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডিসি বলেন, উদ্ধার করা অস্ত্রের ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। ককটেল ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ডেমরা থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া মিঠুর বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি। রিয়াজুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। কামরুলের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা এবং মিঠুর বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতির একাধিক মামলা রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে মল্লিক আহসান উদ্দিন বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘শুটার লিটন’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির অধীনে কাজ করতেন। লিটন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে ওই এলাকার মাদকের স্পটগুলো নিয়ন্ত্রিত হতো। পরে তাঁর সহযোগী খাকি বাবুকেও গ্রেফতার করা হয়। নিহত ইমরান খাকি বাবুর আপন ভাই।

ডিসির ভাষ্য, শুটার লিটন ও খাকি বাবু গ্রেফতার হওয়ার পর মাদকের স্পটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে তাদের সহযোগীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। বিভিন্ন উপদল ও গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

3 November 2026

যাত্রাবাড়ীতে মাদকের স্পটের দখল নিতে ইমরানকে গুলি করে হত্যা,গ্রেফতার ৫

Spread the love
ট্যাগ :
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

মাদক ব্যবসায়ীর ভাড়া বাসায় অভিযান, ইয়াবা-হেরোইনসহ নগদ অর্থ উদ্ধার

যাত্রাবাড়ীতে মাদকের স্পটের দখল নিতে ইমরানকে গুলি করে হত্যা,গ্রেফতার ৫

আপডেট সময় : ০৬:০২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর ধলপুরে মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ইমরান হোসেনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাদের মধ্যে হত্যাকাণ্ডের মূল হোতাও রয়েছেন বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন– রিয়াজুল ইসলাম ওরফে রিয়াজ ওরফে কালিয়া রিয়াজ, কামরুল হাসান, মো. সাইফুল হোসেন, জামিল মিয়া ওরফে দোলন এবং মিঠু ওরফে ডোবার মিঠু।

গতকাল মঙ্গলবার ও আজ বুধবার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি তাজা গুলি, ছয়টি ককটেল, তিনটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি, দুটি সুইচ গিয়ার চাকু ও একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী।

ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রাবাড়ীর ধলপুরের বাদল সরদার গলির একটি গ্যারেজে বসে ছিলেন ইমরান ও সাদ্দাম। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেলে করে হেলমেট ও মাস্ক পরা একদল ব্যক্তি সেখানে এসে তাঁদের লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি চালান। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়েও তাঁদের ওপর হামলা করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ইমরান নিহত হন।

এ ঘটনায় ইমরানের স্ত্রী বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় মামলা করেন।

পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত ৮ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পার গেণ্ডারিয়া এলাকা থেকে মামলার মূল হোতা রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন, পাঁচটি তাজা গুলি ও একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, উদ্ধার করা পিস্তলটি হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয়েছিল। পরে রিয়াজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর বিছানার নিচ থেকে একটি চাইনিজ কুড়াল উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন ডেমরার পাঠানগাইর এলাকায় অভিযান চালিয়ে কামরুল হাসান ও মো. সাইফুল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে ছয়টি ককটেল, দুটি চাইনিজ কুড়াল, দুটি চাপাতি ও দুটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, ৮ সেপ্টেম্বর একই ঘটনায় জড়িত মিঠু ওরফে ডোবার মিঠুকে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকায় ৭০টি ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। পরে আজ অভিযান চালিয়ে জামিল মিয়া ওরফে দোলনকে গ্রেফতার করা হয়।

ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের ডিসি বলেন, উদ্ধার করা অস্ত্রের ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অস্ত্র আইনে মামলা হয়েছে। ককটেল ও অন্যান্য অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ডেমরা থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া মিঠুর বিরুদ্ধে যাত্রাবাড়ী থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে।

গ্রেফতার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানান তিনি। রিয়াজুলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলা রয়েছে। কামরুলের বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি ও ডাকাতির প্রস্তুতির মামলা এবং মিঠুর বিরুদ্ধে মাদক ও ডাকাতির প্রস্তুতির একাধিক মামলা রয়েছে।

হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে মল্লিক আহসান উদ্দিন বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, গ্রেফতার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ‘শুটার লিটন’ নামে পরিচিত এক ব্যক্তির অধীনে কাজ করতেন। লিটন বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। তার নেতৃত্বে ওই এলাকার মাদকের স্পটগুলো নিয়ন্ত্রিত হতো। পরে তাঁর সহযোগী খাকি বাবুকেও গ্রেফতার করা হয়। নিহত ইমরান খাকি বাবুর আপন ভাই।

ডিসির ভাষ্য, শুটার লিটন ও খাকি বাবু গ্রেফতার হওয়ার পর মাদকের স্পটগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে তাদের সহযোগীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। বিভিন্ন উপদল ও গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ডিএমপির এই কর্মকর্তা।

3 November 2026

যাত্রাবাড়ীতে মাদকের স্পটের দখল নিতে ইমরানকে গুলি করে হত্যা,গ্রেফতার ৫

Spread the love