০৯:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণগত মান রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেন খাদ্যমন্ত্রী

  • আপডেট সময় : ০২:০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 97

খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণগত মান রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেন খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হিসেবে উল্লেখ করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘নিরাপদ খাদ্য মজুত’ এবং ‘খাদ্যের গুণগত মান’—এই দুই বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খাদ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মসৃণ রাখার ওপর তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো দুর্যোগ বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখতে আগাম পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত মজুত রাখতে হবে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অধিদপ্তরে যেকোনো ধরনের অনিয়ম কঠোর হাতে দমন করা হবে। দুই-একজনের অনিয়মের জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া হবে না।

জরুরি অবকাঠামোগত সংস্কারের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া খাদ্য গুদামের ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন এবং সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি সারাদেশের সকল খাদ্য গুদাম ও স্থাপনাগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন। একই সাথে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বকেয়া ও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রী একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি জানান, খাদ্য পরিদর্শক ও ওসি-এলএসডিদের কাজের মান, খাদ্য মজুত, গুণগত মান এবং জনসন্তোষ বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়নের পাশাপাশি ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হবে। এছাড়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীকে শাস্তি দেওয়া এবং নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

পরিশেষে, খাদ্য অধিদপ্তরকে একটি দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সরেজমিনে পরিদর্শনের ঘোষণা দেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

3 November 2026

খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণগত মান রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেন খাদ্যমন্ত্রী

Spread the love
ট্যাগ :
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

মাদক ব্যবসায়ীর ভাড়া বাসায় অভিযান, ইয়াবা-হেরোইনসহ নগদ অর্থ উদ্ধার

খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণগত মান রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেন খাদ্যমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০২:০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

খাদ্য অধিদপ্তরের কার্যক্রমকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল হিসেবে উল্লেখ করে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘নিরাপদ খাদ্য মজুত’ এবং ‘খাদ্যের গুণগত মান’—এই দুই বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) খাদ্য অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত কর্মকর্তাদের এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জসীম উদ্দিন খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা মসৃণ রাখার ওপর তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, যেকোনো দুর্যোগ বা সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের মানুষের জন্য নিরবচ্ছিন্ন খাদ্য সরবরাহ বজায় রাখতে আগাম পরিকল্পনা ও পর্যাপ্ত মজুত রাখতে হবে। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্য বাস্তবায়নে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সততা, নিষ্ঠা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, অধিদপ্তরে যেকোনো ধরনের অনিয়ম কঠোর হাতে দমন করা হবে। দুই-একজনের অনিয়মের জন্য পুরো প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ণ হতে দেওয়া হবে না।

জরুরি অবকাঠামোগত সংস্কারের নির্দেশনা দিয়ে মন্ত্রী মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া খাদ্য গুদামের ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন এবং সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পাশাপাশি সারাদেশের সকল খাদ্য গুদাম ও স্থাপনাগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেন। একই সাথে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বকেয়া ও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মন্ত্রী একটি নতুন দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। তিনি জানান, খাদ্য পরিদর্শক ও ওসি-এলএসডিদের কাজের মান, খাদ্য মজুত, গুণগত মান এবং জনসন্তোষ বিবেচনায় নিয়ে নিয়মিত মূল্যায়নের পাশাপাশি ভালো কাজের জন্য পুরস্কৃত করা হবে। এছাড়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে একতরফা সিদ্ধান্ত না নিয়ে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীকে শাস্তি দেওয়া এবং নির্দোষ ব্যক্তি যাতে হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।

পরিশেষে, খাদ্য অধিদপ্তরকে একটি দক্ষ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত সরেজমিনে পরিদর্শনের ঘোষণা দেন খাদ্যমন্ত্রী। তিনি কর্মকর্তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও দক্ষতার সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

3 November 2026

খাদ্য নিরাপত্তা ও গুণগত মান রক্ষায় জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করলেন খাদ্যমন্ত্রী

Spread the love