আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে যাওয়া তাদের ‘সফট পাওয়ার’ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সাংবাদিক ও সহযোগী রাজনৈতিক দলগুলো নতুন করে মাঠে তৎপর হতে শুরু করেছে। সাংস্কৃতিক সংগঠন উদীচী তাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশজুড়ে নানা কর্মসূচি পালন করছে, যেখানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের অংশগ্রহণ দেখা যাচ্ছে। এমনকি সরকার-নিযুক্ত জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালকও উদীচীর প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দিয়েছেন। মূলত কমিউনিস্ট পার্টির সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে পরিচিত হলেও উদীচী এতদিন আওয়ামী লীগের একটি কালচারাল ফ্রন্ট হিসেবে কাজ করেছে বলে তথ্য পাওয়া যায়।
একইভাবে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মাঠে নামার চেষ্টা করছে। তবে গত ২৭ অক্টোবর পল্টনে সিপিবির মিছিলে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া হলে যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এতে বাধা দেন। এছাড়া, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও বিএনপি সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সম্প্রতি সংগঠনটির সাবেক সভাপতি নিমচন্দ্র ভৌমিকের মৃত্যুবার্ষিকী অনুষ্ঠানে বিএনপির সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান উপস্থিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে কড়া সমালোচনা করেন এবং বাঙালি সংস্কৃতি ও ৭১-এর বাংলাদেশ রক্ষার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, নিমচন্দ্র ভৌমিক নেপালে শেখ হাসিনা সরকারের রাষ্ট্রদূত হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থায় ড্যান্সবারে যাওয়া ও নানা কেলেঙ্কারির অভিযোগে নেপাল সরকারের তোপের মুখে পড়ে প্রত্যাহার হয়েছিলেন। অন্যদিকে, ওই একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি সারওয়ার আলী মন্তব্য করেন যে, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশ যতটা এগিয়েছিল, সেখান থেকে আজ অনেক দূরে সরে গেছে। বর্তমানে দীর্ঘ নীরবতা ভেঙে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সংগঠকরা সাংবাদিক প্রশিক্ষণসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে সামনে আসছেন। পাশাপাশি বিটিভির টকশোতে সিপিবির নেতারা নিয়মিত অংশ নিচ্ছেন এবং বিভিন্ন বেসরকারি গণমাধ্যমে আওয়ামীপন্থী প্রচারবিদরা আবারও তাদের রাজনৈতিক অবস্থান ও বয়ান তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন।



















