কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বৌলাই ইউনিয়নের গোয়ালাপাড়া গ্রামের মেঘনা বিলে ফসলি জমির মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি এবং মাছ চাষের জন্য দীর্ঘ মাটির বাঁধ নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা মো. সাদ্দাম হোসেন নিজের ও লিজ নেওয়া জমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে ঘের তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কৃষকরা।
মেঘনা বিল শুধু কৃষিকাজের জন্যই নয়, বরং দামপাটুলি, ছাইহাই, মাগুরয়া ও দারিচুরাসহ আশপাশের পাঁচটি বিলের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম প্রধান পথ। এই বিলে দীর্ঘ বাঁধ নির্মাণ করে পানিপ্রবাহ সংকুচিত করা হলে কিশোরগঞ্জ পৌরসভাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় মারাত্মক জলাবদ্ধতা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এর ফলে আমন ও বোরো ধানসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল এবং বসতবাড়ি মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
স্থানীয় কৃষক মো. নাফিউল হাসান ও মোহাম্মদ রাসেল জানান, মেঘনা বিলের প্রায় ১০০ একর জমিতে বংশপরম্পরায় কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এলাকার অসংখ্য কৃষক ও দিনমজুর। এর আগেও বর্ষা মৌসুমে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হলেও বর্তমানে শুকনো মৌসুমে আবারও মাটি কাটার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে গত ৫ জুলাই সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মো. সাদ্দাম হোসেন সদুত্তর না দিয়ে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। তবে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষিজমি ও বসতবাড়ি রক্ষায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।






















