স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশ কোনো দলের বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয়; বরং এই বাহিনীকে হতে হবে দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিবান্ধব ও মানবিক একটি সংস্থা। আজ রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের (প্রথম পর্যায়) সমাপনী কুচকাওয়াজ-২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতা ও মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং দীর্ঘ ১৮ বছরের বঞ্চনা কাটিয়ে আসা ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে অনুষ্ঠানটির সূচনা হয়।
নতুন বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, একটি নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করায় চেইন অব কমান্ড কঠোরভাবে বজায় রাখতে হবে। বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পুলিশ সদস্যদের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দেন তিনি। ডিজিটাল অপরাধ দমন ও সাইবার নিরাপত্তার বিষয়ে কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে সাধারণ মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু ও সেবক হিসেবে নিজেদের গড়ে তোলার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরিশেষে, দীর্ঘ অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞান, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠনে নবীন কর্মকর্তারা অগ্রণী ভূমিকা রাখবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত ১ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ছয় মাসব্যাপী কঠোর প্রশিক্ষণ শেষে এই সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য দিয়ে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের ৫৮ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার বাস্তব কর্মজীবনে প্রবেশ করলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত হয়ে কুচকাওয়াজের অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এই কুচকাওয়াজে প্যারেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার ড. মো. নূরুল হুদা ভূঁইয়া, যিনি দীর্ঘ প্রশিক্ষণের কৃতিত্বস্বরূপ ‘বেস্ট প্রবেশনার’ এবং ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’—এই দুই ক্যাটাগরিতে অ্যাওয়ার্ড অর্জনের গৌরব অর্জন করেন। এছাড়া, শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার আবু নুমান মোহাম্মদ খাইরুল ইসলাম ‘বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড’ এবং শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপার এ, বি, এম মামুন ‘বেস্ট শ্যুটার’ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।






















