০৮:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভেঙে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য, শিগগির আসছে বড় ঘোষণা, ইতিহাসে এবারই প্রথম

  • আপডেট সময় : ০৫:১৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 153

ভেঙে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য, শিগগির আসছে বড় ঘোষণা, ইতিহাসে এবারই প্রথম

যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন ও আয়ারল্যান্ড পুনরেকত্রীকরণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো একজোট হয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এ নিয়ে সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে ঐতিহাসিক এক বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার—স্কটল্যান্ডের জন সুইনি, ওয়েলসের রুন আপ আইওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মিশেল ও’নিল। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দল সিন ফেইনের সভানেত্রী মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড। বৈঠক শেষে নেতারা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা গণভোটের অধিকার দাবি করে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন।

ইতিহাসে এবারই প্রথম যুক্তরাজ্যভুক্ত তিনটি আঞ্চলিক সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বে একসঙ্গে স্বাধীনতাপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো অবস্থান করছে। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি মন্তব্য করেছেন, তিন দেশে স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব আসা প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যের বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা আর টেকসই নয়। ওয়েস্টমিনস্টারকে এখন ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কার্ডিফের এই বৈঠকে মূলত অর্থনীতি, জ্বালানি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ—এই চার প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। নেতারা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদান এবং আয়ারল্যান্ড পুনরেকত্রীকরণের মাধ্যমে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ইইউতে ফেরার বিষয়ে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি ওয়েলসের নিজস্ব কর ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও তোলা হবে।

তিন দেশের এই সম্মিলিত পদক্ষেপের বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। জন সুইনিকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিকট ভবিষ্যতে কোনো স্বাধীনতা গণভোটের সুযোগ নেই। ২০২৪ সালে নির্বাচিত যুক্তরাজ্য সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী যেকোনো নতুন গণভোটের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বৈঠকের ঠিক দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাবলিন সফরে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ায় পুরো পরিস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তিন দেশের রূপরেখা নির্ধারণের এই যৌথ পদক্ষেপকে বিশ্লেষকেরা যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য ভাঙনের এক স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখছেন।

6 November 2026

ভেঙে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য, শিগগির আসছে বড় ঘোষণা, ইতিহাসে এবারই প্রথম

Spread the love
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

তেজগাঁও বিভাগে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে ২৪ ঘণ্টার গ্রেফতার ৬১

ভেঙে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য, শিগগির আসছে বড় ঘোষণা, ইতিহাসে এবারই প্রথম

আপডেট সময় : ০৫:১৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাজ্য থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন ও আয়ারল্যান্ড পুনরেকত্রীকরণের লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো একজোট হয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস ও নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের রাজনৈতিক নেতৃত্ব। এ নিয়ে সোমবার ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে ঐতিহাসিক এক বৈঠকে বসছেন তিন দেশের ফার্স্ট মিনিস্টার—স্কটল্যান্ডের জন সুইনি, ওয়েলসের রুন আপ আইওয়ার্থ এবং নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের মিশেল ও’নিল। ব্রিটিশ সংবাদপত্র ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৈঠকে তাদের সঙ্গে যোগ দেবেন আয়ারল্যান্ডের বিরোধী দল সিন ফেইনের সভানেত্রী মেরি লু ম্যাকডোনাল্ড। বৈঠক শেষে নেতারা আত্মনিয়ন্ত্রণ ও স্বাধীনতা গণভোটের অধিকার দাবি করে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে সই করবেন।

ইতিহাসে এবারই প্রথম যুক্তরাজ্যভুক্ত তিনটি আঞ্চলিক সরকারের শীর্ষ নেতৃত্বে একসঙ্গে স্বাধীনতাপন্থি রাজনৈতিক দলগুলো অবস্থান করছে। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার জন সুইনি মন্তব্য করেছেন, তিন দেশে স্বাধীনতাপন্থি নেতৃত্ব আসা প্রমাণ করে যে যুক্তরাজ্যের বর্তমান কেন্দ্রীয় সাংবিধানিক ব্যবস্থা আর টেকসই নয়। ওয়েস্টমিনস্টারকে এখন ‘যুক্তরাজ্য-পরবর্তী’ ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হতে হবে। কার্ডিফের এই বৈঠকে মূলত অর্থনীতি, জ্বালানি, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং আত্মনিয়ন্ত্রণ—এই চার প্রধান স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে একটি সমঝোতা স্মারক সই হবে। নেতারা স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যোগদান এবং আয়ারল্যান্ড পুনরেকত্রীকরণের মাধ্যমে নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডের ইইউতে ফেরার বিষয়ে একমত হয়েছেন। পাশাপাশি ওয়েলসের নিজস্ব কর ও রাজস্ব আদায়ের ক্ষমতা বাড়ানোর দাবিও তোলা হবে।

তিন দেশের এই সম্মিলিত পদক্ষেপের বিপরীতে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম। জন সুইনিকে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, নিকট ভবিষ্যতে কোনো স্বাধীনতা গণভোটের সুযোগ নেই। ২০২৪ সালে নির্বাচিত যুক্তরাজ্য সরকারের ইশতেহার অনুযায়ী যেকোনো নতুন গণভোটের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বৈঠকের ঠিক দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডাবলিন সফরে গিয়ে ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন দেওয়ায় পুরো পরিস্থিতিতে নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যুক্ত হয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের তীব্র আপত্তি থাকা সত্ত্বেও তিন দেশের রূপরেখা নির্ধারণের এই যৌথ পদক্ষেপকে বিশ্লেষকেরা যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য ভাঙনের এক স্পষ্ট সংকেত হিসেবে দেখছেন।

6 November 2026

ভেঙে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য, শিগগির আসছে বড় ঘোষণা, ইতিহাসে এবারই প্রথম

Spread the love