এক বছরেরও বেশি পুরোনো একটি ভিডিও নতুন ঘটনার মতো প্রচার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বাহিনীর দায়িত্ব পালন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিজিবি। ভিডিওতে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্যদের ইউপিডিএফের সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে বাহিনীর ভূমিকা বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীটি।
রবিবার (১ নভেম্বর) বিজিবির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এসব তথ্য জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত পুরোনো ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। বিজিবি জানায়, ভিডিওতে প্রদর্শিত ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের থানচির বংকুপাড়া শূন্যরেখা এলাকায় ঘটে। সীমান্তের বিপি-৭১-এর কাছাকাছি স্থানে আরাকান আর্মির একটি দল শূন্যরেখা অতিক্রম করে। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) অধিনায়কের নেতৃত্বে বংকুপাড়া বিওপি থেকে ৩৮ সদস্যের একটি আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে যায়।
সেখানে বিজিবি সদস্যরা প্রথমে মৌখিকভাবে তাদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ না করার জন্য সতর্ক করেন। পরে প্রয়োজনীয় বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দলটিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়। অর্থাৎ, ওই ঘটনায় বিজিবি তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়ে বাংলাদেশের সীমান্তের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দায়িত্ব পালন করে।
বিবৃতিতে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোনোভাবেই ইউপিডিএফের সদস্য ছিলেন না; তারা ছিলেন মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সদস্য। অথচ ঘটনাটিকে ইউপিডিএফের সঙ্গে সম্পৃক্ত করে এবং বিজিবির নেওয়া পদক্ষেপ আংশিক ও বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিকর শিরোনামে ভিডিওটি ছড়ানো হচ্ছে।
বিজিবি আরও জানায়, ঘটনাটি ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর দৈনিক জনকণ্ঠের ফেসবুক পেজ এবং দেশ টিভির ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত হয়েছিল। এক বছরেরও বেশি আগের ঘটনাকে সাম্প্রতিক ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন এবং সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীর পরিচয় পরিবর্তন করে প্রচারের কোনো যৌক্তিকতা নেই। এ ধরনের প্রচারণা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের পরিপন্থী।
বাহিনীটির দাবি, পুরোনো ও খণ্ডিত ভিডিও নতুন করে প্রচারের মাধ্যমে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি, বিজিবির প্রতি জনগণের আস্থা ক্ষুণ্ন এবং দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের মনোবলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। কোনো সুনির্দিষ্ট স্বার্থ বা উদ্দেশ্য সামনে রেখে এ ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
বিবৃতিতে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে বলা হয়, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামরিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল ও অস্থিতিশীল। বিশেষ করে বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন রাখাইন রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দেশটির নিয়মিত সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ ও উপস্থিতি সীমিত। এসব এলাকার বিস্তীর্ণ অঞ্চল আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবাধীন। পাশাপাশি খুমি ও অন্যান্য জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতায় সীমান্তের নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
এসব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো স্বতন্ত্র ইউনিফর্ম না থাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া এবং সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। ফলে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাত বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এমন পরিস্থিতিতে বিজিবি সদস্যদের অত্যন্ত সতর্কতা, পেশাদারত্ব ও বিচক্ষণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।
বিজিবি বলেছে, দেশের সীমান্ত ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি সর্বদা পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। বিভ্রান্তিকর প্রচারণার মাধ্যমে বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকা ও অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা কাম্য নয়। যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।











