চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে এক পুলিশ কনস্টেবলের বাড়ির সামনে বিয়ের দাবিতে অনশন করেছেন এক নারী পুলিশ সদস্য। অভিযুক্ত পুলিশ কনস্টেবল মেরাজ আলী এক সন্তানের বাবা বলে জানা গেছে। মেরাজকে বাড়িতে না পেয়ে তালাবদ্ধ ঘরের দরজার সামনে অবস্থান নিয়ে অনশন শুরু করেন ওই নারী কনস্টেবল।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের হরিনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মেরাজ আলী ওই এলাকার মৃত আব্দুর রাকিবের ছেলে। বর্তমানে তিনি রাজধানীর উত্তরা ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের দেহরক্ষী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন বলে জানা গেছে।
অনশনকারী নারী পুলিশ সদস্যের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে মেরাজ আলীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে মেরাজ তাকে গাজীপুরে একই বাসায় বসবাস করান এবং বিভিন্ন হোটেলে নিয়ে রাতযাপন করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ওই নারী কনস্টেবলের অভিযোগ, তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও হয়েছে। এ ছাড়া বাড়ি নির্মাণের কথা বলে মেরাজ আলী তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রায় ২০ লাখ টাকা নিয়েছেন। গত এক বছর ধরে তার বেতনের পুরো টাকাও মেরাজ নিয়ে নিতেন বলে দাবি করেন তিনি।
অনশনকারী আরও বলেন, টাকা নেওয়ার পর থেকেই মেরাজ আলী তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। প্রায় ১৮ দিন ধরে তার সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে না পেরে তিনি মেরাজের বাড়িতে এসে বিয়ের দাবি জানান। পরে জানতে পারেন, মেরাজ আলী ইতোমধ্যে বিবাহিত এবং তার একটি সন্তান রয়েছে।
ওই নারী পুলিশ সদস্য বলেন, মেরাজ আমাকে বিয়ে করার কথা বলে দীর্ঘদিন ধরে সম্পর্ক রেখেছেন। তার কথায় বিশ্বাস করে আমি অর্থও দিয়েছি। এখন তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে তার বাড়িতে এসে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নিয়েছি।
অনশন চলাকালে বিয়ে না করলে আত্মহত্যা এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান ওই নারী।
এদিকে মেরাজ আলীকে বাড়িতে ও তার মামার বাড়িতে পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মেরাজ আলীর মা ও স্ত্রী জানান, এ বিষয়ে তারা কিছু জানেন না।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা এবং নারী পুলিশ সদস্যের দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।






















