০৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ, জমা দিলেন বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

সুন্দরবনে সক্রিয় কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন ডাকাত কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জমা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড জানায়, গত মঙ্গলবা বিকালে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা নিজেদের কাছে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।

আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭ দশমিক ৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭ দশমিক ৬৫ মি.মি. পিস্তলের ২০ রাউন্ড গুলি, ৮ মি.মি. পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা, এয়ারগানের ৪১৩ রাউন্ড গোলা, চারটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগানের ম্যাগাজিন এবং ছয়টি ওয়াকিটকি ও চার্জার জমা দেওয়া হয়।

কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার বাসিন্দা। আর আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাটের রামপালের বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোস্ট গার্ড আরও জানায়, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে এর আগে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

6 November 2026

সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ, জমা দিলেন বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

Spread the love
ট্যাগ :
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

সোনারগাঁও হোটেলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ, জমা দিলেন বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

আপডেট সময় : ০৭:১৫:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুন্দরবনে সক্রিয় কুখ্যাত নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন ডাকাত কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। এ সময় তারা বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জমা দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকালে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

কোস্ট গার্ড জানায়, গত মঙ্গলবা বিকালে বাগেরহাটের মোংলা থানার সুন্দরবনের ধানসিদ্ধির চর এলাকায় নানা ভাই বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তারা নিজেদের কাছে থাকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ কোস্ট গার্ডের কাছে জমা দেন।

আত্মসমর্পণকারীদের কাছ থেকে একটি এইট শুটার, একটি সিক্স শুটার, একটি ফোর শুটার, একটি সাইড হেমার, একটি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, দুটি এমথ্রি গ্যাস গান, দুটি ৭ দশমিক ৬৫ মি.মি. পিস্তল, দুটি ওয়ান শুটার ও দুটি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭ দশমিক ৬৫ মি.মি. পিস্তলের ২০ রাউন্ড গুলি, ৮ মি.মি. পাঁচ রাউন্ড তাজা গোলা, এয়ারগানের ৪১৩ রাউন্ড গোলা, চারটি পিস্তলের ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগানের ম্যাগাজিন এবং ছয়টি ওয়াকিটকি ও চার্জার জমা দেওয়া হয়।

কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে জাহাঙ্গীর মোড়ল ওরফে রহমত (৩৬), সাইফুল্লাহ মোড়ল (৩৯), এখলাছুর রহমান (৩৮), রবিউল ইসলাম (৩৫), মফিজুল ইসলাম (৩৫), আজিম উদ্দিন গাজী (৩৭) ও আব্দুর রহমান শেখ (৩৬) খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার বাসিন্দা। শফিকুল ইসলাম (৫৩), মিন্টু গাজী (৩৯), আজিজুল গাজী (৩৫) ও শাহজাহান মালী (৩৫) সাতক্ষীরার শ্যামনগর এলাকার বাসিন্দা। আর আজিজুর রহমান (৪৫) বাগেরহাটের রামপালের বাসিন্দা।

কোস্ট গার্ডের দাবি, আত্মসমর্পণকারীরা দীর্ঘদিন ধরে নানা ভাই বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি এবং জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

কোস্ট গার্ড আরও জানায়, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূল ও উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। এসব অভিযানে এখন পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং দস্যুদের হাতে জিম্মি থাকা ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

ধারাবাহিক অভিযানের মধ্যে এর আগে ছোট সুমন বাহিনী, বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য এবং ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীসহ মোট ৩৭ জন সক্রিয় ডাকাত সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ এবং আত্মসমর্পণকারীদের বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তাঁদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নেওয়া হবে বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে।

কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে সুন্দরবনে সক্রিয় বনদস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

6 November 2026

সুন্দরবনে ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ ডাকাতের আত্মসমর্পণ, জমা দিলেন বিপুল অস্ত্র-গোলাবারুদ

Spread the love