০২:৪৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপনে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো। এ উপলক্ষে আজ সারা দেশে সাধারণ ছুটি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও পোশাক কারখানা বন্ধ থাকবে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্‌যাপনসংক্রান্ত নির্দেশিকায় ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিবছর দিনটি জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপিত হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিবসটি উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তফসিলি ব্যাংকও আজ বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

বিএনপির শোভাযাত্রা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আজ বিএনপির শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, সকাল সাড়ে আটটায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এরপর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

রিজভী জানান, ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রা হবে। এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। দিবসটি উপলক্ষে দলটি সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিএনপি সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

বাণীতে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সকল ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে রাষ্ট্র। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা পাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেশের সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সকল বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

বাণীতে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন, দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তাঁবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের সেই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়। স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। জাতির এই ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা ছিল ত্রাতার।

সিপাহি ও জনতার এই সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ-উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সর্বদা সংহতি ও ঐক্য প্রকাশ করেছে। সেই একই চেতনা পুনর্জাগরিত হয় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। এসময় ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে আবারও রক্ষা পায় প্রিয় স্বদেশ।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সারাবেলা ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।

ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের নানা কর্মসূচি

দিবসটি উদ্‌যাপনে সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সাজানো হবে। জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় মসজিদে মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু পরিবারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। শিশুদের জন্য দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার অধীন শিশু পার্কগুলো দিনভর বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হবে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশের পাশাপাশি টেলিভিশন ও বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশাত্মবোধক গানের আয়োজন এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শিত হবে।

ছয় ঘণ্টা টোলমুক্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনকে টোল দিতে হবে না। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরও দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ওই সময়ের রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার মধ্যে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করেছিল।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট মারুফ কামাল খান দিনটিকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। আর সাংবাদিক ও কলামিস্ট গাজীউল হাসান খানের মতে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের জীবন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছিল।

7 November 2026

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

Spread the love
ট্যাগ :
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

আপডেট সময় : ০১:১০:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আজ ৭ নভেম্বর, জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস। দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদ্‌যাপনে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো। এ উপলক্ষে আজ সারা দেশে সাধারণ ছুটি। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও পোশাক কারখানা বন্ধ থাকবে।

দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদ্‌যাপনসংক্রান্ত নির্দেশিকায় ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিবছর দিনটি জাতীয়ভাবে উদ্‌যাপিত হবে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দিবসটি উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তফসিলি ব্যাংকও আজ বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) দিবসটি উপলক্ষে দেশের সব পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে।

বিএনপির শোভাযাত্রা

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে আজ বিএনপির শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে। দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন।

দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার সাংবাদিকদের জানান, সকাল সাড়ে আটটায় শেরেবাংলা নগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী ও দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। এরপর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে শোভাযাত্রার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

শোভাযাত্রাটি নয়াপল্টন থেকে কাকরাইল, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়, বাংলামোটর ও ফার্মগেট হয়ে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

রিজভী জানান, ঢাকার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরেও দিবসটি উপলক্ষে শোভাযাত্রা হবে। এ ছাড়া বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলো আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে। দিবসটি উপলক্ষে দলটি সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিএনপি সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। দিবসটি উপলক্ষে বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী।

বাণীতে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ৭ই নভেম্বরের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দলমত নির্বিশেষে সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে দুর্নীতি, বৈষম্য ও সকল ষড়যন্ত্রের অবসান ঘটাতে হবে।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বাণীতে বলেন, ৭ নভেম্বরের আশা-আকঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দেশ ও জনগণের স্বার্থে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ দর্শনের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে রাষ্ট্র। জাতীয় স্বার্থ, সাম্য, ন্যায্যতা ও গণতন্ত্রচর্চা পাবে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

‘মহান জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষ্যে দেশের সকল নাগরিককে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন তিনি। একই সাথে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী সকল বীর সেনানী ও দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।

বাণীতে তিনি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অবিস্মরণীয় দিন, দেশের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ। তাঁবেদারি অপশাসন, দুর্নীতি, নৈরাজ্য ও আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের সেই কঠিন সময়ে ঐক্যবদ্ধ সিপাহি-জনতার বিপ্লবের মধ্য দিয়ে দেশ তার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব ফিরে পায়। সকল ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়। স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন। জনগণের অকুণ্ঠ সমর্থনে তাঁর ওপর রাষ্ট্র পরিচালনা ও জাতীয় সংকট উত্তরণের গুরুদায়িত্ব অর্পিত হয়। জাতির এই ক্রান্তিকালে তাঁর ভূমিকা ছিল ত্রাতার।

সিপাহি ও জনতার এই সংহতি ছিল স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত এক অভূতপূর্ব জাগরণ-উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমাদের সশস্ত্র বাহিনী দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও জনগণের অধিকার রক্ষায় সর্বদা সংহতি ও ঐক্য প্রকাশ করেছে। সেই একই চেতনা পুনর্জাগরিত হয় ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে। এসময় ছাত্র-ছাত্রী, নারী-পুরুষ, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য নির্বিশেষে সর্বস্তরের জনগণের সুদৃঢ় ঐক্যে দীর্ঘ ষোলো বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার বিপর্যয় থেকে আবারও রক্ষা পায় প্রিয় স্বদেশ।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল। তিনি বলেন, ‘যারা বাংলাদেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করে রাখতে চেয়েছিল, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে দেশে একদলীয় স্বৈরাচারী শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল এবং দেশের শৌর্য, বীর্য, সাহস ও সম্মানের প্রতীক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করতে চেয়েছিল, ৭ নভেম্বর দেশপ্রেমিক সিপাহি-জনতার ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের পরাজয় ঘটেছিল।’

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৭ নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব চক্রান্ত রুখে দিয়েছিল। দেশের ইতিহাসে ঐতিহাসিক দিনটি ছিল বাংলাদেশের শত্রু-মিত্র চিহ্নিত করার দিন।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জন্ম ও মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নিয়ে আলোচনায় একটি প্রবাদবাক্য প্রণিধানযোগ্য—‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সারাবেলা ইতিহাসচর্চায় মশগুল থাকা যেমন সমীচীন নয়, তেমনি ভবিষ্যতের পথ রচনায় ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণ না করাও একটি ঐতিহাসিক ভুল।

তারেক রহমান বলেন, ইতিহাস সাক্ষী, দীর্ঘ ষড়যন্ত্রের পথ ধরে ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত সেই অপশক্তি মহাজোটের নামে একজোট হয়ে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ ঘটিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করেছিল। জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েম করেছিল। হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ এবং বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় পর অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ২০২৪ সালে যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় রাজপথে নেমে এসেছিল, একইভাবে ১৯৭৫ সালেও সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নেমে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিরোধী সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল।

ভবিষ্যতে যাতে কেউ দেশ ও জনগণের অধিকার হরণ করতে কিংবা দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে না পারে, সেটিই এবারের ৭ নভেম্বরের প্রধান অঙ্গীকার হওয়া উচিত বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

সরকারের নানা কর্মসূচি

দিবসটি উদ্‌যাপনে সরকার দেশব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়েছে। দেশের প্রধান সড়ক ও সড়কদ্বীপ জাতীয় পতাকায় সাজানো হবে। জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনায় মসজিদে মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাত এবং অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হবে।

এ ছাড়া হাসপাতাল, কারাগার, এতিমখানা ও শিশু পরিবারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। শিশুদের জন্য দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার অধীন শিশু পার্কগুলো দিনভর বিনা টিকিটে উন্মুক্ত থাকবে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা এবং প্রদর্শনী ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হবে। জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিশেষ নিবন্ধ ও ক্রোড়পত্র প্রকাশের পাশাপাশি টেলিভিশন ও বেতারে বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে দেশাত্মবোধক গানের আয়োজন এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। সশস্ত্র বাহিনীর পক্ষ থেকেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন, মিলাদ মাহফিল, প্রীতিভোজ ও বিশেষ দরবারের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ক্যাডেট কোরের তত্ত্বাবধানে বর্ণাঢ্য ডিসপ্লে প্রদর্শিত হবে।

ছয় ঘণ্টা টোলমুক্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছয় ঘণ্টা ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনকে টোল দিতে হবে না। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরও দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জারি করেছে।

ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি দিন। ওই সময়ের রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতার মধ্যে সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

দিবসটির ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদ বলেন, ৭ নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লব দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব সুসংহত করেছিল।

সাংবাদিক ও কলামিস্ট মারুফ কামাল খান দিনটিকে স্বাধীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে উল্লেখ করেন। আর সাংবাদিক ও কলামিস্ট গাজীউল হাসান খানের মতে, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর জিয়াউর রহমানের জীবন এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ মোড় তৈরি করেছিল।

7 November 2026

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস আজ

Spread the love