চাঁদাবাজি, লুটপাট এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবরকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) শরীয়তপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আয়শা আক্তারের আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিনের আবেদন করলে শুনানি শেষে বিচারক তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলা ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার মানিকনগর এলাকার বাসিন্দা ছোবহান মাদবরের কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিলেন সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবর। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে কাজীরহাট এলাকায় ছোবহান মাদবরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। এ সময় মালামাল লুটপাট ও নগদ অর্থ আত্মসাৎসহ প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি করে দোকানঘরটি দখল করে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। ঘটনার পর ভুক্তভোগী প্রথমে থানায় গেলেও পুলিশ মামলা না নিয়ে আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয়। পরবর্তীতে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর শরীয়তপুরের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলী আদালতে মামলা দায়ের করা হলে, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পরও আসামিরা দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার না করায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। সে সময় জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহাম্মদ দাবি করেছিলেন যে আসামিরা হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন নিয়েছেন। তবে পরবর্তীতে জানা যায়, তারা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করলেও তা পাননি; বরং গত এপ্রিল মাসে তারা আদালত থেকে আট সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। সেই জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ায় গত মঙ্গলবার জেলা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন সুরুজ মাদবর ও স্বাধীন মাদবর। আদালত সার্বিক দিক বিবেচনা করে তাদের আবেদন নামঞ্জুর করে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এই আদেশের পর বাদীপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, এখন মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত হলে তারা অবশেষে ন্যায়বিচার পাবেন।





















