০৩:৪৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রাইম ইসলামী লাইফে ৫৬৫ কোটি টাকার অনিয়ম ও ঝুঁকি: নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

  • আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 160

প্রাইম ইসলামী লাইফে ৫৬৫ কোটি টাকার অনিয়ম ও ঝুঁকি: নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৫৬৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন ও অনিশ্চিত বিনিয়োগের তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা করে কোম্পানিটির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, বিনিয়োগ নীতি ও বন্ডের পুঞ্জীভূত অনিয়মের এসব তথ্য উন্মোচন করেছেন নিরীক্ষকেরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ২১১ কোটি টাকার বেশি অর্থ অনাদায়ী খাতে আটকে রয়েছে, যা তাদের সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোর ওপর মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে চরম ঘাটতি রেখে অনিয়মিত খাতে অর্থ ঢালা হয়েছে। বীমা বিধিমালা অনুযায়ী মোট সম্পদের অন্তত ৩০ শতাংশ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করার নিয়ম থাকলেও ২০২৫ সালে কোম্পানিটির ৭৮২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সম্পদের বিপরীতে বিনিয়োগ রয়েছে মাত্র ২৭ কোটি টাকা। ফলে এ খাতে ২০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বিশাল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিপরীতে আইডিআরএ নির্ধারিত ৫ শতাংশ সীমার বিধান ভেঙে ‘অন্যান্য অনুমোদিত বিনিয়োগে’ অতিরিক্ত ১৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ। পিএফআই সিকিউরিটিজে অনাদায়ী মুনাফা, লভ্যাংশ ও ভাড়াসহ কোম্পানিটির পাওনা ১৮৮ কোটি ১১ লাখ টাকার একটি বড় অংশ ২০১৮ সাল থেকে আটকে আছে। এছাড়া স্টার্লিং গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা প্রায় ১৫ কোটি টাকা অনাদায়ী থাকায় তা উদ্ধারে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চারটি দেওয়ানি আবেদন চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলালায়নের জিরো কুপন বন্ডে মূল ও মুনাফাসহ মোট ৭ কোটি টাকার বেশি অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

আইনি কমপ্লায়েন্স এবং মালিকানা রূপরেখাতেও চরম অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। ২০১৮ সালের সরকারি অনুশাসন (এসআরও) অনুযায়ী বাধ্যতামূলক হলেও প্রাইম ইসলামী লাইফ তাদের জীবন বীমা দায়ের কোনো অ্যাকচুয়ারিয়াল তদন্ত ও মূল্যায়ন করেনি। তাছাড়া সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্য ১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার লভ্যাংশ ২০১৮ সাল থেকে অনাদায়ী এবং শেয়ারবাজারে আনরিয়েল্যাইজড লোকসান হয়েছে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। একই সাথে ৩০ কোটি ৫২ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে স্পন্সর ও পরিচালকদের ৩৬.০৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৬৩.৯২ শতাংশের এই মালিকানা কাঠামো আইডিআরএর নির্ধারিত অনুপাতের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

6 November 2026

প্রাইম ইসলামী লাইফে ৫৬৫ কোটি টাকার অনিয়ম ও ঝুঁকি: নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Spread the love
জনপ্রিয়
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত
গ্রামীণফোনের ৯ মাসের মুনাফায় পতন, তৃতীয় প্রান্তিকে আয় অপরিবর্তিত

সোনারগাঁও হোটেলের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ

প্রাইম ইসলামী লাইফে ৫৬৫ কোটি টাকার অনিয়ম ও ঝুঁকি: নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট সময় : ০৬:৫৬:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান প্রাইম ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সে ৫৬৫ কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়ম, বিধি লঙ্ঘন ও অনিশ্চিত বিনিয়োগের তথ্য উঠে এসেছে। ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষা করে কোম্পানিটির স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, বিনিয়োগ নীতি ও বন্ডের পুঞ্জীভূত অনিয়মের এসব তথ্য উন্মোচন করেছেন নিরীক্ষকেরা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটির ২১১ কোটি টাকার বেশি অর্থ অনাদায়ী খাতে আটকে রয়েছে, যা তাদের সামগ্রিক আর্থিক কাঠামোর ওপর মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।

আইনগত বাধ্যবাধকতা থাকা সত্ত্বেও সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগে চরম ঘাটতি রেখে অনিয়মিত খাতে অর্থ ঢালা হয়েছে। বীমা বিধিমালা অনুযায়ী মোট সম্পদের অন্তত ৩০ শতাংশ সরকারি সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করার নিয়ম থাকলেও ২০২৫ সালে কোম্পানিটির ৭৮২ কোটি ৫৯ লাখ টাকার সম্পদের বিপরীতে বিনিয়োগ রয়েছে মাত্র ২৭ কোটি টাকা। ফলে এ খাতে ২০৭ কোটি ৭৭ লাখ টাকার বিশাল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিপরীতে আইডিআরএ নির্ধারিত ৫ শতাংশ সীমার বিধান ভেঙে ‘অন্যান্য অনুমোদিত বিনিয়োগে’ অতিরিক্ত ১৪৮ কোটি ৬৭ লাখ টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার মোট পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৮৭ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

দীর্ঘদিন ধরে অনাদায়ী ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটির শত শত কোটি টাকার বিনিয়োগ। পিএফআই সিকিউরিটিজে অনাদায়ী মুনাফা, লভ্যাংশ ও ভাড়াসহ কোম্পানিটির পাওনা ১৮৮ কোটি ১১ লাখ টাকার একটি বড় অংশ ২০১৮ সাল থেকে আটকে আছে। এছাড়া স্টার্লিং গ্রুপের চার প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করা প্রায় ১৫ কোটি টাকা অনাদায়ী থাকায় তা উদ্ধারে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে চারটি দেওয়ানি আবেদন চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ২০১৬ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়া বাংলালায়নের জিরো কুপন বন্ডে মূল ও মুনাফাসহ মোট ৭ কোটি টাকার বেশি অর্থ ফেরত পাওয়া নিয়ে ঘোর অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

আইনি কমপ্লায়েন্স এবং মালিকানা রূপরেখাতেও চরম অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে। ২০১৮ সালের সরকারি অনুশাসন (এসআরও) অনুযায়ী বাধ্যতামূলক হলেও প্রাইম ইসলামী লাইফ তাদের জীবন বীমা দায়ের কোনো অ্যাকচুয়ারিয়াল তদন্ত ও মূল্যায়ন করেনি। তাছাড়া সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্য ১৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকার লভ্যাংশ ২০১৮ সাল থেকে অনাদায়ী এবং শেয়ারবাজারে আনরিয়েল্যাইজড লোকসান হয়েছে ২ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। একই সাথে ৩০ কোটি ৫২ লাখ টাকা পরিশোধিত মূলধনের বিপরীতে স্পন্সর ও পরিচালকদের ৩৬.০৮ শতাংশ এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ৬৩.৯২ শতাংশের এই মালিকানা কাঠামো আইডিআরএর নির্ধারিত অনুপাতের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

6 November 2026

প্রাইম ইসলামী লাইফে ৫৬৫ কোটি টাকার অনিয়ম ও ঝুঁকি: নিরীক্ষা প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য

Spread the love