উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার, মৎস্যজীবী ও মাছ ধরার নৌযানের সুরক্ষা এবং দুর্যোগকালীন পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন সক্ষমতা গড়ে তুলছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। এ লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাহিনীটি। পর্যায়ক্রমে উপকূলীয় জেলাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও এ প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে উপজেলা আনসার উচ্চতর প্রশিক্ষণ-১ এর সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘পিপলস ওয়ারফেয়ার ডকট্রিন’ বা গণপ্রতিরক্ষা দর্শনের আলোকে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আনসার-ভিডিপির অপারেশনাল সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ও নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যৌথ প্রশিক্ষণ এবং সমন্বয় জোরদার করা হচ্ছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন যৌথ প্রশিক্ষণের পাশাপাশি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সঙ্গেও প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
মহাপরিচালক বলেন, প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সহযোগিতায় নেওয়া এ উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে উপকূলীয় জেলাসহ দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। ভবিষ্যতে নৌবাহিনী, কোস্টগার্ড, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে উপকূলীয় নিরাপত্তা, মৎস্যজীবী ও মাছ ধরার নৌযানের সুরক্ষা এবং উদ্ধার অভিযান পরিচালনায় আনসার সদস্যদের সক্ষমতা বাড়ানো হবে। দুর্যোগ ও বিশেষ পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতেও তাঁদের প্রস্তুত করা হবে।
তিনি আরও বলেন, গণপ্রতিরক্ষা দর্শনের আলোকে আনসার-ভিডিপির ৬০ লাখ সদস্যকে জাতীয় নিরাপত্তা, দুর্যোগ মোকাবিলা ও জনসেবায় আরও কার্যকরভাবে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সংস্কার কার্যক্রমে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা, স্বেচ্ছাসেবা ও আত্মত্যাগের চেতনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি তাঁদের পরিবার ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও সম্পৃক্ত করে দায়িত্বশীল জননিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার কাজ চলছে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান মহাপরিচালক। তিনি বলেন, কারিগরি ও ভাষাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে। জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ এবং প্রান্তিক শক্তি লিমিটেডের মাধ্যমে জাপান ও ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক ও সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর কার্যক্রমও চলছে।
বাহিনীর আধুনিকায়ন ও ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে সদস্যদের সমন্বিত তথ্যভান্ডার, কিউআর কোডভিত্তিক ডিজিটাল প্রশিক্ষণ সনদ, ডিজিটাল মনিটরিং, মাঠপর্যায়ে ডিজিটাল ফেসিয়াল অ্যাটেনডেন্স ও সিআরএম ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাপাশি বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ কর্মসূচি, সামাজিক সচেতনতা ও বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে বাহিনীর স্বেচ্ছাসেবকদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। প্রশিক্ষণে কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী প্রশিক্ষণার্থীকে ক্রেস্ট এবং অন্যদের ডিজিটাল সনদ ও আনসার ব্যাংকের শেয়ার সার্টিফিকেট দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রতিনিধি, জেলার বিভিন্ন দপ্তরের আমন্ত্রিত অতিথি এবং আনসার-ভিডিপির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






















